চুরি করা তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশ্ন, কোন শিকার কত দামি বলে দেয় ম্যালওয়্যার
ভোল্টা নামের তথ্যচোর ম্যালওয়্যার চুরি করা তথ্য বড় ভাষা মডেলে পাঠিয়ে শিকারের সম্পদ কম, মাঝারি ও বেশি মূল্যের স্তরে সাজায় বলে জানিয়েছে সিসকো ট্যালোস।

উইন্ডোজ কম্পিউটার থেকে তথ্য চুরি করার পর সেই তথ্য এআইকে দিয়ে বিশ্লেষণ করাচ্ছে নতুন একটি ম্যালওয়্যার। লক্ষ্য একটাই: কোন শিকারের কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা যাবে, তা আগে বুঝে নেওয়া। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে সিসকোর সাইবার গবেষণা দল ট্যালোস। ম্যালওয়্যারটির নাম ভোল্টা-অটোডক্সার (VOLTA-AUTODOXER); এর নমুনা প্রথম দেখা যায় ১১ অক্টোবর।
কীভাবে কাজ করে
ট্যালোস জানিয়েছে, ভোল্টা প্রথমে ব্রাউজারের পাসওয়ার্ড, কুকি ও সংরক্ষিত কার্ডের তথ্য, আউটলুক, স্ল্যাক, ডিসকর্ড ও টেলিগ্রামের সেশন, গেমিং অ্যাকাউন্ট, ক্লাউড কনফিগারেশন ফাইল ও ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে। এরপর এসব তথ্য ওপেনরাউটার নামের একটি সেবার মাধ্যমে বড় ভাষা মডেলে পাঠায়। প্রথম পছন্দ Anthropic-এর Claude Opus 4.6; মডেল প্রত্যাখ্যান করলে পর্যায়ক্রমে মুনশটের কিমি কে২ ও গুগলের জেমিনি ২.৫ ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে।
মডেলের উত্তরে শিকারের সম্পদকে কম, মাঝারি ও বেশি মূল্যের স্তরে সাজানো হয়। আলাদা অংশে শিকারের পাসওয়ার্ড অভ্যাস ও নিরাপত্তা-সচেতনতারও মূল্যায়ন থাকে। চুরি করা জিমেইল ঘেঁটে বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করা, খাবার অর্ডারের ইতিহাস বের করার মতো কাজও করে এটি। এপিআই চাবি না থাকলে এআই ধাপ বাদ দিয়েই চলতে পারে ম্যালওয়্যারটি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ট্যালোসের ধারণা, এর নির্মাতা ক্রেতা অনুযায়ী আলাদা সংস্করণ বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন; তবে এটি এখনো অনুমান। গবেষকদের মতে, চুরি করা বিপুল তথ্যের মধ্যে থেকে দামি শিকার বাছাইয়ের কাজটি এআই সহজ করে দিচ্ছে। আক্রান্ত হলে সব টোকেন বাতিল ও পাসওয়ার্ড বদলানো, এবং যে ক্রিপ্টো ওয়ালেটের সিড ফ্রেজ সাধারণ লেখায় রাখা ছিল তা পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ ধরে নিয়ে নতুন ওয়ালেটে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ট্যালোস।
