শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সংস্করণ:সকালদুপুরবিকেলরাত
সর্বশেষ

এআইয়ের চিপ-চাহিদায় দেশে কম্পিউটারের দাম চড়া, র‍্যাম বেড়েছে তিন গুণ

এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ায় ঢাকার বাজারে র‍্যাম, এসএসডি ও গ্রাফিকস কার্ডের দাম লাফিয়ে বেড়েছে; বিক্রেতারা বলছেন, বিক্রি কমেছে অনেক।

এআইয়ের চিপ-চাহিদায় দেশে কম্পিউটারের দাম চড়া

বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ার ধাক্কা লেগেছে দেশের কম্পিউটার বাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কম্পিউটার বাজারে গত এক বছরে র‍্যাম, এসএসডি ও গ্রাফিকস কার্ডের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন বা বাদ দিচ্ছেন। এক বিক্রেতার ভাষ্য, আগে তাঁর দোকানে দিনে ২০টির বেশি পিসি বিক্রি হতো, এখন হয় চার-পাঁচটি।

কোন যন্ত্রাংশের দাম কত বেড়েছে

বিক্রেতাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী:

  • র‍্যাম: ৮ জিবি ডিডিআর৪ র‍্যাম ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ছিল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা; এখন আট থেকে নয় হাজার টাকা। গেমিংয়ের ১৬ জিবি ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম সাড়ে সাত থেকে নয় হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩১ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে।
  • এসএসডি: এক বছরে দাম মোটামুটি দ্বিগুণ।
  • গ্রাফিকস কার্ড: দাম বেড়েছে প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ।
  • মাদারবোর্ড: ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
  • প্রসেসর: ব্যতিক্রম; দাম সামান্য বেড়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছুটা কমেছেও।

এক বিক্রেতার হিসাবে, যে সাধারণ মানের পিসি আগে প্রায় ২০ হাজার টাকায় বানানো যেত, এখন তাতে লাগছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা।

এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়

এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত উচ্চগতির মেমোরি (এইচবিএম) বানাতে কারখানাগুলোর সক্ষমতা সেদিকে সরে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ কম্পিউটারের র‍্যামের সরবরাহ কমেছে। মেমোরি নির্মাতা মাইক্রনের ভাষ্য, একটি এইচবিএম চিপ বানাতে যে কারখানা-সক্ষমতা লাগে, তা দিয়ে ল্যাপটপের তিনটি সাধারণ র‍্যাম বানানো যেত।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ সামান্য কমলেও বড় ব্র্যান্ডগুলো মজুত করায় বাংলাদেশের মতো বাজারে দাম অনেক বেশি বাড়ে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন কারখানা চালু না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ অন্তত ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত দাম চড়া থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, এসব দাম বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া হিসাব; দোকান ও মডেলভেদে দাম ভিন্ন হতে পারে।