বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সংস্করণ:সকালদুপুরবিকেলরাত
সর্বশেষ

বিচারে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বললেন আইনমন্ত্রী

রায় লেখা বা সাক্ষ্য বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে বিচারকদের সতর্ক করলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; মানুষের কণ্ঠ নকলের ক্ষমতাকেও বড় চ্যালেঞ্জ বললেন তিনি।

বিচারে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বললেন আইনমন্ত্রী

বিচারপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রায় লেখা বা সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এআই এখন মানুষের কণ্ঠ হুবহু নকল করতে পারে; বিচার বিভাগের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার পক্ষে

এআই নিয়ে সতর্কতার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের পক্ষে কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, "বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার সহজলভ্য করতে হবে।" তিনি জানান, ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার সুফল এরই মধ্যে মিলছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও সমন জারি হলে সময়, খরচ ও ঝুঁকি কমবে। ই-জুডিশিয়ারির জন্য বিচারকাজের সব ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে এবং বিচারকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামলাজট

মন্ত্রী জানান, দেশে বিচারাধীন মামলা ৪৬ লাখের বেশি, আর সেগুলো সামলাচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৩০০ বিচারক। এই চাপকে তিনি "পাহাড়সম" চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেন; ঢাকা ও চট্টগ্রামে চাপ সবচেয়ে বেশি। যেসব কর্মকর্তা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন, তাঁদের বেশি মামলার আদালতে পদায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদালতে এআই দিয়ে বানানো ভুয়া নজির ও নথি জমা পড়ার ঘটনা ঘটছে। বিপুল মামলাজটের চাপে এআইকে সহজ সমাধান মনে হতে পারে; সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই সতর্কবার্তা তাই বিচারকদের এআই ব্যবহারের নীতিনির্দেশনার প্রশ্নটি সামনে আনল।