মহাকাশে গুগলের এআই চিপ চালু, প্রথম উত্তর একটি হাইকু
মহাকাশে ডেটা সেন্টার বানানোর পরীক্ষায় গুগলের সানক্যাচার প্রকল্পের প্রথম স্যাটেলাইট কাজ শুরু করেছে; কক্ষপথে বসে জেমা ৪ মডেল লিখেছে একটি কবিতা।

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার বসানো সম্ভব কি না, তা যাচাইয়ে পাঠানো গুগলের প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট কক্ষপথে কাজ শুরু করেছে। 'প্রজেক্ট সানক্যাচার' নামের এই প্রকল্পের স্যাটেলাইটে থাকা গুগলের নিজস্ব এআই চিপ টিপিইউ একটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিষয়টি জানা যায়।
স্যাটেলাইটটি ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে আরও শতাধিক মহাকাশযানের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষার পর প্রথমবার মেশিন লার্নিংয়ের কাজ চালানো হয়। স্যাটেলাইটে আগে থেকে রাখা গুগলের উন্মুক্ত মডেল জেমা ৪-কে প্রকৌশলীরা নিজের চারপাশ নিয়ে একটি হাইকু লিখতে বলেন। উত্তর আসে: "Blue marble below / Data streams in silent grace / Starlight feeds my core."
সীমাবদ্ধতা কোথায়
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইটটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। ফলে একটানা প্রায় ২০ মিনিট চিপ চালানোর পরই বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়। গুগল চারটি টিপিইউ পাঠানোর কথা জানালেও একসঙ্গে একটির বেশি চালানো যায় না বলে খবর। এখন পরীক্ষা হবে তাপমাত্রার ওঠানামা ও মহাকাশের বিকিরণে চিপ কেমন টেকে। বিকিরণে তথ্যের 'বিট' উল্টে গিয়ে নিঃশব্দে হিসাব ভুল হতে পারে; আগের ভূমি-পরীক্ষায় দেখা গেছে, মডেল চালানোর চেয়ে প্রশিক্ষণে এর প্রভাব বেশি।
সামনে কী
২০২৭ সালে আরও দুটি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা আছে, যেগুলোতে থাকবে নতুন প্রজন্মের চিপ, বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা এবং এক স্যাটেলাইট থেকে আরেকটিতে আলোর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা। গুগলের লক্ষ্য, ২০৩০-এর দশকে সূর্যের আলোয় চলা মহাকাশ ডেটা সেন্টারকে সাশ্রয়ী করা। তবে তার জন্য রকেট উৎক্ষেপণের খরচ অনেক কমতে হবে।
