এআইয়ে খরচ আয়ের চেয়ে বেশি, শেয়ারধারীদের ফেরত ১৫ বছরে সর্বনিম্ন
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পাঁচ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূলধনি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ৫৫৬.৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের ব্যবসা থেকে আসা নগদ অর্থকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এআই ডেটা সেন্টারের পেছনে খরচ করতে গিয়ে শেয়ারধারীদের হাতে টাকা ফেরানো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা ও ওরাকলের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা থেকে আসা নগদ অর্থের মাত্র ৯.৩ শতাংশ লভ্যাংশ ও শেয়ার পুনঃক্রয়ে ফেরত দিয়েছে। আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল ২৭.৪ শতাংশ। অন্তত ১৫ বছরে এটিই সর্বনিম্ন।
খরচ ছাড়াল আয়কে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের পরিচালন নগদ প্রবাহ ২৯ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৪২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু মূলধনি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৬.৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০১১ সাল থেকে পাওয়া তথ্যে এই প্রথম খরচ আয়কে ছাড়াল। ফলে সম্মিলিত ফ্রি ক্যাশ ফ্লো এক বছর আগের ১৪৩.৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থেকে নেমে ১৪ বিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে পড়েছে।
শেয়ার পুনঃক্রয় ৮৩ শতাংশ কমে ৮১.৮ বিলিয়ন থেকে ১৩.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। লভ্যাংশ অবশ্য সামান্য বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অ্যালফাবেট ও মেটা এ বছর কোনো শেয়ার পুনঃক্রয় করেনি। অ্যামাজনের তৃতীয় প্রান্তিকের মূলধনি ব্যয় ছিল ৭৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যা একই সময়ে ব্যবসা থেকে আসা ৪২.৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বহু বছর ধরে শেয়ার পুনঃক্রয় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় বাড়িয়ে শেয়ারের দাম ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এখন সেই সহায়তা সরে যাচ্ছে, আর খরচ জোগাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ ও শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছে। সূত্রের খবর, অ্যালফাবেট এ বছর শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ১২.৪ বিলিয়ন ও ঋণ নিয়ে ২৯ বিলিয়ন ডলার তুলেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে খরচ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এখন কম নগদ পেয়ে এই বাজি ধরছেন যে এআই একসময় যথেষ্ট মুনাফা এনে দেবে।
