তরঙ্গের দাম কমানোর প্রস্তাব বিটিআরসির, অপারেটররা চায় আরও ছাড়
তিন অপারেটরের তরঙ্গ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ ১০ নভেম্বর; নবায়ন মূল্য ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট নয় অপারেটররা, রাজস্ব নিয়ে চিন্তায় সরকার।

মোবাইল অপারেটরদের তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) নবায়নের দাম আগের চেয়ে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে অপারেটররা বলছে, এই দামও বেশি; তারা আরও কম দাম এবং দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের বর্তমান লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ নভেম্বর।
হিসাব কত
তিন অপারেটরের হাতে এসব ব্যান্ডে মোট ৭৯.২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ আছে—গ্রামীণফোনের ৩২.৪, রবির ২২.৪ এবং বাংলালিংকের ২৪.৪ মেগাহার্টজ। বর্তমান দরে নবায়নে লাগত ১৬ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার বেশি; বিটিআরসির নতুন প্রস্তাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। লাইসেন্সের মেয়াদ ১২ বছর ৪ মাসের বদলে ২০ বছর করার কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি ১৫ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব ২৫ অক্টোবর বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও আরও কম দাম, ২০ বছরে সমান কিস্তি এবং বার্ষিক তরঙ্গ চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, বাংলাদেশের অপারেটররা আয়ের ১৫.৭ শতাংশ তরঙ্গে খরচ করে, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৭.৭ শতাংশ।
সরকারের দুশ্চিন্তা
চলতি অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে তরঙ্গ নবায়ন ফিও ধরা আছে। মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দাম কমলে সরকারের আয় কমতে পারে; সব দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রযুক্তি নীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, দাম কমানো হলে সেবার মান নিশ্চিত করার শর্তও কড়া করা উচিত। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হাতে আছে আর মাত্র নয় দিন।
