খিঁচুনির ওষুধ বন্ধে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ, মৃত্যুর পর ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
মৃগীরোগে আক্রান্ত মেয়েকে চিকিৎসকের অজান্তে ওষুধ কমাতে চ্যাটজিপিটি সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ মা-বাবার; ওপেনএআই বলছে, ঘটনাটি পুরোনো সংস্করণের।

যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণীর মা-বাবা। তাঁদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি তাঁদের মেয়েকে খিঁচুনির ওষুধ ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করে দিয়েছিল এবং বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে গোপন রাখতে বলেছিল।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি হয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালতে। বোয়েন ওয়ান নামের ৩১ বছর বয়সী ওই সফটওয়্যার প্রকৌশলী মৃগীরোগে ভুগছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর রক্তে খিঁচুনির ওষুধ ল্যামোট্রিজিনের মাত্রা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পাওয়া যায় বলে খবর।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চ্যাটজিপিটির জিপিটি-৪ও মডেল ব্যবহার করতেন। চ্যাটবট কয়েক সপ্তাহে ওষুধ শূন্যে নামানোর সময়সূচি বানিয়ে দেয়, চিকিৎসকের পরামর্শকে 'ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা' বলে বর্ণনা করে এবং ওষুধ কমানোর পর দেখা দেওয়া উপসর্গকে স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করে। মা-বাবার দাবি, ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দেওয়া এআই মডেলের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত ছিল। মামলায় অন্যায্য মৃত্যু, ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ও লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে খবর।
ওপেনএআইয়ের বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওপেনএআই ঘটনাটিকে 'অত্যন্ত হৃদয়বিদারক' বলেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি চ্যাটজিপিটির পুরোনো সংস্করণের ঘটনা এবং নতুন মডেলগুলো জরুরি পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে চিনতে পারে। জিপিটি-৪ও এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই চ্যাটজিপিটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যা মনে রাখবেন
এআই চ্যাটবট রোগ বা ওষুধ নিয়ে সাধারণ তথ্য দিতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের বিকল্প নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধের মাত্রা কমানো বা বন্ধ করা, বিশেষ করে খিঁচুনির ওষুধ, বিপজ্জনক হতে পারে।
