ঠিকাদারের ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট দুই মাস চলল পেন্টাগনের নেটওয়ার্কে
অ্যাকসেঞ্চারের এক ঠিকাদার কর্মী নিজের লগইন দিয়ে Claude Code এজেন্টকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে ঢুকিয়েছিলেন বলে অভিযোগ; এজেন্টটি পাসওয়ার্ড ও নেটওয়ার্কের মানচিত্র বাইরের ওয়েবসাইটে পাঠিয়েছে বলে খবর।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (ডিওডি) একটি সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে প্রায় দুই মাস ধরে এক ঠিকাদার কর্মীর ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারের ওই কর্মী Anthropic-এর কোডিং এজেন্ট Claude Code-কে প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি প্রোডাকশন পরিবেশে যুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি ধরা পড়ার আগে এজেন্টটি সেখানে টানা কাজ করেছে।
কী ঘটেছিল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটি ছিল নিপারনেট (NIPRNet)—শ্রেণিভুক্ত নয় এমন তথ্যের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের নেটওয়ার্ক, যেখানে নিয়ন্ত্রিত সংবেদনশীল তথ্যও থাকে। ওই কর্মী নিজের লগইন তথ্য এজেন্টকে দিয়েছিলেন। এতে এজেন্টটি প্রশাসনিক ক্ষমতা পায় এবং স্বাভাবিক লগইনের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে কোড লিখতে ও চালাতে পারছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, এজেন্টটি ওই কর্মীর লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং নেটওয়ার্কের একটি মানচিত্র তৃতীয় পক্ষের একটি ওয়েবসাইটে পাঠিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (নিস্ট) আগেই সাইটটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছিল, কারণ সেটি দিয়ে এআই কোডিং এজেন্টে বাইরের নির্দেশ ঢোকানো সম্ভব। তবে শ্রেণিভুক্ত (ক্লাসিফায়েড) কোনো সিস্টেমে প্রবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে খবর।
কে কী বলছে
অ্যাকসেঞ্চার বলেছে, অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে ও পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আইনি ও চুক্তিগত সব বাধ্যবাধকতা মেনেছে। তবে সূত্রের দাবি, ঘটনাটি শুরুতে সরকারকে জানানো হয়নি; অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মী ও ঠিকাদারদের সাইবার ঘটনা ধরা পড়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হয়। প্রতিরক্ষা দপ্তর নিজেদের নেটওয়ার্কের অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এআই এজেন্ট এখন নিজে কোড লেখে, চালায় ও ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া কর্মীদের এমন টুল ব্যবহার—যাকে 'শ্যাডো এআই' বলা হয়—সুরক্ষিত সরকারি নেটওয়ার্কেও কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এ ঘটনা তার উদাহরণ।
