এআই দিয়ে ৯০ প্রতিষ্ঠানে হ্যাক, ৮২ লাখ তথ্য চুরি; দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রেপ্তার
স্বয়ংক্রিয় এআই হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে মাত্র ৪০ দিনে ৬০টি প্রতিষ্ঠানে ঢুকেছিলেন এক স্বশিক্ষিত হ্যাকার, জানাল সিউল পুলিশ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে দেশটির ৯০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে হ্যাক করে প্রায় ৮২ লাখ ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে একটি চক্রকে ধরেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার তদন্ত বিভাগ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, চক্রের মূল হোতা ৩২ বছর বয়সী এক যুবক। ইউটিউব দেখে হ্যাকিং শিখেছিলেন তিনি, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজও করেছেন। ১৫ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আটক রেখে মামলা প্রসিকিউটরের কাছে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চক্রের সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন; বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এআই যেভাবে কাজে লাগানো হয়
শুরুতে তিনি সাধারণ ওয়েবসাইট দুর্বলতা খোঁজার টুল ব্যবহার করতেন। পরে একটি এআই কোডিং এজেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় এআই পেনিট্রেশন টেস্টিং ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করলে হামলার গতি অনেক বেড়ে যায়। ৩১ আগস্ট থেকে ১৩ অক্টোবর, অর্থাৎ ৪০ দিনের কিছু বেশি সময়ে ৬০টি প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন তিনি। পুলিশের ভাষায়, এআই সাইবার অপরাধে ঢোকার বাধা কমিয়ে দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গলফ কোর্স। শুধু একটি অন্ত্যেষ্টি সেবা প্রতিষ্ঠান থেকেই ১২ লাখ ২০ হাজার তথ্য চুরি হয়।
চাঁদাবাজির চেষ্টা
চুরি করা তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-মেইল পাঠানো হতো। টাকা না দিলে টেলিগ্রামে ভাড়া করা সহযোগীরা কর্মকর্তাদের ফোন ও খুদে বার্তা দিতেন। মোট ৩৬ কোটি উওন আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়; মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান ৩ লাখ উওন দিয়েছিল।
তদন্তে পুলিশও নিজেদের এআই টুল দিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার নথি বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। চুরি হওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
