নিরীহ অ্যাপের আড়ালে ডিপফেক, ৪০০-র বেশি অ্যাপ ও সাইটের নেটওয়ার্ক শনাক্ত
ভাষা শেখা বা ব্যায়ামের অ্যাপ সেজে অ্যাপল ও গুগলের স্টোরে ঢুকেছিল এগুলো; অনুসন্ধানের তথ্য পেয়ে ১৯টি অ্যাপ সরিয়েছে অ্যাপল।

ভাষা শেখানো, ব্যায়ামের কোচিং বা পোষা প্রাণীর ছবি সম্পাদনার সাধারণ এআই টুল হিসেবে দেখানো ৪০০-র বেশি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এগুলো গোপনে যৌন ও সহিংস ডিপফেক তৈরির সুবিধা খুলে দিত। ইউরোপের অলাভজনক সংস্থা এআই ফরেনসিকসের গবেষণার ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছে।
যেভাবে ফাঁকি দিত
সংস্থাটির প্রধান গবেষক পল বুশো অ্যাপগুলোর কোড বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, ব্যবহারকারীর অবস্থান, ভাষা ও ডিভাইসের পরিচয় অনুযায়ী লুকানো সুবিধা চালু হতো। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ডিপফেকের বিজ্ঞাপনে চাপ দিয়ে অ্যাপ নামানোও ছিল একটি সংকেত। ব্যবহারকারীরা এরপর ছবি আপলোড করে ক্রেডিট কিনে ডিপফেক বানাতে পারতেন। মূল্য পরিশোধ হতো অ্যাপল ও গুগলের ব্যবস্থার মাধ্যমেই।
সংখ্যায় নেটওয়ার্ক
- সেপ্টেম্বরে গুগল প্লেতে সচল ছিল ২৭টি অ্যাপ, মোট ডাউনলোড সাড়ে তিন লাখের বেশি।
- একসময় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০টি নতুন অ্যাপ-সাইট নিবন্ধন হচ্ছিল।
- ইনফোব্লক্সের এক গবেষক সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০০ ডোমেইন পেয়েছেন।
প্রায় এক বছর ধরে অ্যাপ প্রকাশ করে আসা এই নেটওয়ার্ক চীনা ভাষাভাষী ডেভেলপার ও হংকংয়ে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে খবর।
প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব
অ্যাপল ১৯টি অ্যাপ সরিয়েছে। তাদের দাবি, পর্যালোচনার পর অ্যাপগুলো বদলে গিয়েছিল। গুগল জানিয়েছে, সাংবাদিকদের যোগাযোগের আগেই অধিকাংশ অ্যাপ সরানো হয়েছিল। মেটা ১১ হাজার ৬০০ বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট ও ১৫ হাজার পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে গবেষকদের সতর্কবার্তা, নতুন নামে আবার অ্যাপ আসতে পারে।
